চলে যাওয়ার দল
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে দিনের পরে আর একটা দিন
ঘাটে বসে দেখছি আমি বইছে নদী ক্লান্তিহীন ।
কাঁচ পোকা টিপ মুহূর্তরা পুতিরমালা দণ্ড পল
মন খারাপের কাজল চোখে থমকে থাকা বিন্দু জল ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে পুকুর পাড়ের প্রাচীন ঘাট
হাঁড়ি-বাঁধা খেজুরগাছ ধুসর ধুলোর ধু ধু মাঠ ।
মেঠো পথের আবছা বাঁকে ফেলে আসা ঝিম বিকেল
পালিয়ে যাবার ইছছে নিয়ে কালো ধোঁয়ার কয়লা
রেল ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে গ্রীষ্ম
কালের খোলা ছাত
আকাশ ভরা তারার নীচে ঘুম না আসা মধ্য রাত ।
পাহাড় কোলে তুলোর মেঘ নদীর ধারে বালুর চর
ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখা অচেনা সব গ্রাম শহর ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে মনগড়া সব রুপকথারা
তুলসী তলার প্রদীপ জ্বলা সন্ধাবেলার চুপকথারা ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে শ্রাবন দিনের মেঘলা মুখ
একলা বসে পদ্য লেখার হটাৎ পাওয়া সৃষ্টি
সুখ ।
রৌদ্র মেঘের লুকোচুরি ছুটির গন্ধ শরত কাল
দুব্বো ঘাসের আঁচল জুড়ে শিশির মাখা মায়ার জাল ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে নির্জনতার ভর দুপুর
গলির মোড়ে ডাক দিয়ে যায় ফেরিওয়ালার ক্লান্ত সুর ।
পাড়ার ঠেক গলির রক তর্কে মাতা বিকেল বেলা
চায়ের কাপে তুফান তোলা নষ্ট দিনের বেলা আবেলা ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে চেনা শহর কলকাতা
তার সঙ্গে মান অভিমান আড়ি ভাবের সখ্যতা
অলি গলির জ্যান্ত শহর অষ্টে
পৃষ্টে জড়িয়ে
ছেড়ে কোথাও যায়না যাওয়া মায়ায় বাঁধন ছাড়িয়ে ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে দম ঘোরানো কলের
গান
আখতারিবাই বড়েগোলাম কৃষ্ণচন্দ্র আমির খান
।
শামল-সন্ধা-মানবেন্দ্র পাড়ার জলসা জমজমাট
মেলোডিতে মাতিয়ে দেওয়া সন্ধে থেকে গভীর
রাত ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে ঝড়তুফান লাল নিশান
বারুদ গন্ধ সরু গলি রাস্তা হাঁটা গান স্লোগান ।
কারফিউতে ত্রস্ত শহর রাজপথেতে কুচকাওয়াজ
দেয়ালেতে রক্তছাপ নর্দমাতে ভাসছে লাশ ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে বুকের ভিতর নীল আগুন
নেভা আঁচের ভিতরেতে ঘুমিয়ে পড়া মাস ফাগুন ।
কবিতার প্রিয় পংত্তি গুলো বিস্মৃতিতে দিয়েছে ডুব
দস্যি দামাল ভাবনা গুলো শান্ত হয়ে রয়েছে চুপ ।
হাত ছাড়িয়ে যাচ্ছে চলে অনেক দিনের চেনা মুখ
জমছে স্মৃতি হৃদয় জুড়ে বিষণ্ণতায় ভরছে বুক ।
জীবন থেকে যাচ্ছে চলে আরও একটা বসন্ত কাল
চলে যাওয়ার স্রোতের টানে নৌকো আমার টালমাটাল ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন